Apps

Picture

হাতিয়া থানা

Picture

থানার নাম,ছবি,ম্যাপ ও অফিসার ইনচার্জের নাম এবং থানাধীন এলাকার তথ্য

অফিসার ইনচার্জ মোবাইল          ই-মেইল
মোঃ আবুল খায়ের  01713373754 ocnoa.hat@police.gov.bd

আয়তন ও অবস্থান

হাতিয়া উপজেলার আয়তন ১৫০৭.৩৬ বর্গ কিলোমিটার। এটি আয়তনের দিক থেকে নোয়াখালী জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা।[২] এ উপজেলা নোয়াখালী জেলার বেশ কিছু উপকূলীয় দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এর এলাকার পরিমাণ ২,১০০ বর্গ কিলোমিটার। এ উপজেলার উত্তরে মেঘনা নদী ও সুবর্ণচর উপজেলা, উত্তর-পশ্চিমে মেঘনা নদী ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলা, পশ্চিমে হাতিয়া চ্যানেল ও ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে সন্দ্বীপ চ্যানেল ও চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলা অবস্থিত। [৩]

প্রশাসনিক এলাকা

হাতিয়া উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম হাতিয়া থানার আওতাধীন।

পৌরসভা:

ইউনিয়নসমূহ:

ইতিহাস

প্রমত্তা মেঘনা আর বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশির প্রচণ্ড দাপটের মুখে হাতিয়ায় প্রকৃতির ভাঙা-গড়ার কারণে এক থেকে দেড়শ’ বছরের পুরনো কোনো নিদর্শন অবশিষ্ট নেই। দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি অনেক গবেষক হাতিয়ার ওপর গবেষণা করেছেন। তাদের মধ্যে সুরেশ চন্দ্র দত্ত কিছু যুক্তি দিয়ে হাতিয়ার বয়স অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন। দক্ষিণবঙ্গের ভূ-ভাগ সৃষ্টির রহস্য নিয়ে তার গবেষণায় তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রতি ১৩৬ থেকে ১৪০ বছর সময়ের মধ্যে এক মাইল স্থলভাগ সৃষ্টি হয় হাতিয়ায়। তার এ তথ্য আমলে নিয়ে হাতিয়ার বর্তমান আয়তনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে হাতিয়ার বয়স সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার বছর বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত হাতিয়ার চৌহদ্দি নিরূপণ করলে দেখা যায়, হাতিয়ার উত্তরে সুধারাম, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে সন্দ্বীপ এবং পশ্চিমে মনপুরা ও তজুমদ্দিন উপজেলা। এক সময় সন্দ্বীপের সঙ্গে হাতিয়ার দূরত্ব ছিল খুবই কম। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই দূরত্ব এখন ৬০ মাইল ছাড়িয়েছে। ক্রমাগত ভাঙনই এ দূরত্ব সৃষ্টি করেছে। হাতিয়ার ভাঙা-গড়ার খেলা চতুর্মুখী দোলায় দোদুল্যমান। উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিক দিয়ে ভাঙছে। আবার দক্ষিণে গড়ছে, পাশাপাশি আবার মূল ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে আশপাশে ছোট-বড় নানান ধরনের চর জেগে উঠছে। ওয়েব স্টার নামের একটি সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮৯০ সাল থেকে হাতিয়ার আদি ভূখণ্ডের উত্তর ভাগের ভাঙন শুরু হয়। বিরাট আয়তনের জমি নদী ও সাগরের ভাঙনে বিলুপ্ত হলেও একই সময় দ্বীপের উত্তর দিকে হাতিয়ার আয়তন ভাঙনের প্রায় ২ থেকে ৫ গুণ হারে বাড়তে শুরু করে। সেই সময় এ অঞ্চলের জেগে ওঠা চরের যে হিসাব পাওয়া যায় তা হলো : ফেনী নদীর মুখে ৫টি, হাতিয়া দ্বীপের সম্প্রসারণ ১৮টি, হাতিয়া চ্যানেলে ৫টি, মেঘনার বুকে ৩টি ও ডাকাতিয়া নদীর মুখে ৩৫টি চর সৃষ্টির প্রক্রিয়া হাতিয়ার মোট আয়তনকে পরিবৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে। ১২০ বছরের ব্যবধানে হিসাব-নিকাশে ঢের পরিবর্তন এসেছে। অনেক চর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, কিছু কিছু আবার ভাঙনের কবলে পড়ে হারিয়ে গেছে। ক্রমাগত ভাঙনের কারণে সঠিক আয়তন নির্ধারণ করা কঠিন হলেও উপজেলা পরিষদের হিসাব মতে হাতিয়ার বর্তমান আয়তন ২১শ’ বর্গকিলোমিটার বলে উল্লেখ আছে। হাতিয়া সম্পর্কে আরও জানতে চাইলে পড়তে পারেন ড. মোহাম্মদ আমীনের লেখা তিলোত্তমা হাতিয়া ও ইতিহাস’ শিরোনামের গ্রন্থটি।

মধ্যযুগের ইতিহাস

হাতিয়ার বিভিন্ন সংগঠন থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন, সাবেক উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমীন রচিত 'তিলোত্তমা হাতিয়া : ইতিহাস ও ঐতিহ্য' বই ও দ্বীপের প্রবীণদের কাছ থেকে হাতিয়ার ইতিহাস সম্পর্কে জানা গেছে, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ শতাব্দীর দিকে বঙ্গোপসাগর আর মেঘনার মোহনায় গড়ে ওঠা সবুজে ঘেরা দ্বীপটি মানুষের নজরে আসে। কিংবদন্তি রয়েছে, পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে বার আউলিয়া নামে খ্যাত বারজন আউলিয়া মাছের পিঠে সওয়ার হয়ে বাগদাদ থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে হাতিয়ায় বিশ্রাম নিয়েছিলেন।বিশ্রামকালে সন্দ্বীপ-হাতিয়ার অনেক মানুষ তাদের হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। হজরত সুলতান ইব্রাহীম বলখি মাহীসাওয়ারও মাছের পিঠে চড়ে হাতিয়ায় এসেছিলেন। বিখ্যাত সাধক বায়েজিদ বোস্তামী এবং হজরত শাহ আলী বোগদাদি হাতিয়ায় কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। এর পর থেকে হাতিয়ায় প্রচুর আরব সাধক এসেছিলেন। সর্বশেষ একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয়ের চারশ’ বছর আগে ৭ম শতাব্দীতে কিছু আরব বণিক ধর্ম প্রচারের জন্য সমুদ্রপথে চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় মনোরম এই দ্বীপটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে দ্বীপে কিছুকাল অবস্থান করেন। এসব আরব বণিক ও সাধক দ্বীপে বসবাসরত কিরাত সম্প্রদায় এর সাধারণ মানুষদের মাঝে ইসলাম প্রচার করেন।

ইসলাম প্রচার

ইতিহাসে বাংলাদেশে ইসলামের প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রামকে ধরা হলেও হাতিয়াতেই ইসলামের সূত্রপাত হয় বলে বিশ্বাস করেন দ্বীপের মানুষেরা। খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে এখানে একটি বৃহত্তম জামে মসজিদ গড়ে ওঠে। এটিই ছিল হাতিয়ার ঐতিহাসিক প্রথম জামে মসজিদ। নির্মাণের প্রায় ৮০০ বছর পর ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৫৮ সালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মজিদের নকশায় পুরনো সেই মসজিদের আদলে মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হিসেবে এখানে আরেকটি মসজিদ গড়ে তোলা হয়। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত মসজিদটি অক্ষত ছিল।

জনসংখ্যার উপাত্ত

মোট জনসংখ্যা ৪,৫২,৪৬৩ জন (প্রায়), পুরুষ ২,২৩,৮৫৩ জন (প্রায়), নারী ২,২৮,৬১০ জন (প্রায়)। জনসংখ্যার ঘনত্ব ৩০০ (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে), জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ৩%। মোট ভোটার সংখ্যা ২,১৮,০১৯ জন, পুরুষ ভোটার ১,১০,২০০ জন, মহিলা ভোটার ১,০৭,৮১৯ জন

শিক্ষা

হাতিয়া উপজেলার সাক্ষরতার হার ৬৯%।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ২১৬ টি, বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৯ টি, জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় ০৭ টি, মোট উচ্চ বিদ্যালয় ৪৫ টি, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ০৩ টি, মোট কলেজ ০৫টি (বালিকা ১টি), দাখিল মাদ্রাসা ০৮ টি, অালিম মাদ্রাসা ০৩ টি, কামিল মাদ্রাসা ০১ টি। উল্লেখ যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলঃ

  • এ.এম উচ্চ বিদ্যালয়
  • জাহাজমারা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৭১)
  • জাহাজমারা ছেরাজুল আলিম মাদ্রাসা
  • এম.সি.এস উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৮)
  • হাতিয়া শহর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • ওছখালী কে.এস.এস. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
  • হাতিয়া ইউনিয়ন মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১২ সাল)
  • সুখচর ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়
  • হাতিয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসা(১৯১২সাল)
  • হাতিয়া দ্বীপ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
  • চর চেংগা ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসা (১৯৪৭)
  • হাতিয়া ডিগ্রি কলেজ
  • প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম মহিলা কলেজ
  • হাতিয়া কমিউনিটি কলেজ (২০০২)

যোগাযোগ ব্যাবস্থা

পাকা রাস্তা ১৩০ কি:মি:, অাধা-পাকা রাস্তা ৬০ কি:মি:, কাচা রাস্তা ৬৮৭ কি:মি, ব্রীজ/কালভার্ট ৩৬৮ টি, নদীর সংখ্যা ০৩ টি, জেলা সদর তথা মুল ভূখন্ডের সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। এছাড়া ঢাকা এবং চট্রগ্রামের সাথে সরাসরি নৌপথে যোগাযোগ আছে।

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

  • আমিরুল ইসলাম কালাম, প্রাক্তন মন্ত্রী ।
  • প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, প্রাক্তন সংসদ সদস্য, আজিম গ্রুপ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান)
  • অধ্যাপক ওয়ালী উল্লাহ, প্রাক্তন সংসদ সদস্য।
  • মাওলানা এ কে এম ফখরুল ইসলাম, প্রথিতযশা ইসলামিক স্কলার।
  • মাওলানা আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আবদুল হাই (লেখক, সাবেক এমএলএ, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ সভাপতি সাবেক পূর্ব পাকিস্তান)
  • মৃতঃ এডভোকেট আফলাতুন হোসেন ( রাজা মিয়া মোক্তার) হাতিয়া কোর্ট
  • ক্যাপ্টেন হাবিবুল্লাহ
  • রফিকুল আমিন (মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডা ও দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক)
  • জমিদার রাজা মিয়া চৌধুরী
  • মাহমুদ আলী রাতুল (সভাপতি হাতিয়া জনকল্যাণ সমিতি চট্টগ্রাম ও বিশিষ্ট শিল্পপতি)
  • জমিদার জগমোহন গোমস্তা
  • জমিদার আজহার উদ্দিন মিয়া
  • আবদুল মোতালেব মিয়া (সাবেক প্রধান শিক্ষক এ.এম উচ্চ বিদ্যালয় )
  • প্রকৌশলী আমিরুল মোমিন বাবলু
  • মোহাম্মদ আলী ( সাবেক সাংসদ সদস্য)
  • মরহুম কবি ফজলুল হক (১৮৯৩-১৯৬৮)
  • তালুক মিয়া ( সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান , হাতিয়া)
  • মরহুম কবি আবদুর রশিদ
  • নবীর উদ্দিন সফদার(সাবেক চেয়ারম্যান)
  • জান মোহাম্মদ পাটোয়ারী ( জমিদার)
  • শিল্পী সেলিনা আক্তার
  • রাখি (লাক্স সুপারস্টার- ২০১০)
  • মাহবুব মোর্শেদ লিটন (উপজেলা চেয়ারম্যান)
  • ব্যারিষ্টার মাহবুব আহমেদ (ডিআইজি)

জনপ্রতিনিধি

সংসদীয় আসন জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[৪] সংসদ সদস্য[৫][৬][৭][৮][৯] রাজনৈতিক দল
২৭৩ নোয়াখালী-৬ হাতিয়া উপজেলা বেগম আয়েশা ফেরদাউস বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

ঐতিহ্য

হাতিয়া মহিষ ও গরুর দধির জন্য বিখ্যাত। কথায় আছে - "হাতিয়ার দই, নোয়াখালীর কৈ, স্বন্দ্বীপের ডাব, রামগতির রাব।" এছাড়া রয়েছে জামাই পিঠা নামে খ্যাত "নকশী পিঠা" বা হাতিয়ার ভাষায় পাক্কন পিঠা। পুলি পিঠা, চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা, জালার পিঠা, রস ভোগ, আনতাসা পিঠা, সাইন্না পিঠা, ভরা পিঠা সহ হরেক রকমের পিঠা। নাউর এবং গ্রামীণ কৃষ্টি-সংস্কৃতির বিয়ে এখানে এখনও প্রচলিত।

দর্শনীয়স্থান

  • নিঝুম দ্বীপ
  • কাজিরবাজার কমলা রাণীর দিঘী
  • রহমত বাজার ঘাট ।
  • তমরুদ্দি পাথর ঘাট ।
  • সূর্যমূখী সি বীচ ।
  • দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা পার্ক ।
  • সর্ণদ্বীপ সেনানিবাস।
  • জাহাজমারা কাটাখালী ।
  • আলাদি গ্রাম ।
  • নিউ মার্কেট ।
  • টাংকির ঘাট ।
  • ভাষান চর
  • দমার চর
  • রামচরন দরগা শরীফ

 
Copyright © 2020 Superintendent of police, Sirajgonj. Developed by Momtaj Trading(Pvt.) Ltd.